1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. mahabub.mk1@gmail.com : Mahbub Khan Akash : Mahbub Khan Akash
  3. kdalim142@gmail.com : ডালিম খান : ডালিম খান
শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

ওসি প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

সাংবাদিকের নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১
  • ৬১ দেখেছেন

 

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মুহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ মডেল থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও তাঁর স্ত্রী চুমকির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত আজ মঙ্গলবার সকালে এ আদেশ দেন।

আদালত প্রদীপ কুমার দাশ ও তাঁর স্ত্রীর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দুই জেলার জেলা প্রশাসককে ক্রোক করে রিসিভার হিসেবে তাঁদের অধীনে রাখার নির্দেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় এ নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘ঘুষ ও দুর্নীতি’র মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপন করার জন্য চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন পাথরঘাটা এলাকার একটি ছয়তলা বাড়ি প্রদীপ কুমার দাশ তাঁর শ্বশুরের নামে নির্মাণ করেন। পরে ওই বাড়িটি নিজের মেয়ে ‍চুমকির নামে দান করেন প্রদীপের শ্বশুর। দানপত্র দলিল হলেও বাড়িটি প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রী চুমকি কর্তৃক অর্জিত বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাহামুদুল হক জানান, আদালত পাথরঘাটা এলাকার একটি ছয়তলা বাড়ি, পাঁচলাইশ এলাকার জায়গা ও দুটি গাড়িসহ প্রদীপ কুমার দাশ ও তাঁর স্ত্রীর চট্টগ্রামের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজারের সম্পত্তি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে ক্রোক করে তাঁদের অধীনে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ছাড়া আয়কর রিটার্নে আসামি চুমকির কমিশন ব্যবসা এবং বোয়ালখালী উপজেলায় ১০ বছরের জন্য লিজ নেওয়া পাঁচটি পুকুরে মাছের ব্যবসার যে আয় দেখানো হয়েছে, তাও তাঁর স্বামী প্রদীপ দাশের অপরাধলব্ধ অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে ভুয়া ব্যবসা প্রদর্শন করে দেখানো হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করে দুদক।

গত বছরের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি করেন। মামলায় প্রদীপের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী চুমকিকেও আসামি করা হয়।

গত বছরের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মুহাম্মদ রাশেদ খান।

হত্যার পাঁচ দিনের মাথায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে। ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশকে করা হয় ২ নম্বর আসামি। মামলার ৩ নম্বর আসামি করা হয় টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে।

এরপর আসামি সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) হত্যার ঘটনায় স্থানীয় তিনজন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য এবং প্রদীপের দেহরক্ষীসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আলোচিত মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করে র‍্যাব। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডটিকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ জন আগে থেকেই কারাগারে ছিলেন। আত্মসমর্পণের পর কনস্টেবল সাগর দেবকে কারাগারে পাঠান আদালত।

কারাগারে থাকা অন্য ১৪ আসামি হলেন—বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

এ ছাড়া ঘটনার সময় মেজর সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা যে নীলিমা বিচ রিসোর্টে ছিলেন, সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নূরকে আটক করে। পরে তাহসিন রিফাত নূরকে অভিভাবকের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শিপ্রা দেবনাথকে রামু থানায় করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। আর সিফাতকে টেকনাফ থানায় করা হত্যা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দুটি মামলা ও রামু থানায় করা মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সিফাত, শিপ্রা ও তাহসিন বেসরকারি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তাঁদের নিয়ে সিনহা মুহাম্মদ রাশেদ খান একটি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য কক্সবাজারে প্রামাণ্যচিত্র তৈরির কাজ করছিলেন।

৯ আগস্ট শিপ্রা ও ১০ আগস্ট সিফাতের জামিন মঞ্জুর করেন কক্সবাজারের আদালত। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। পরে ১৩ ডিসেম্বর এই দুই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বিমান চন্দ্র কর্মকার রামু ও টেকনাফ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের দায়ের করা দুই মাদক মামলার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব মুক্ত সংবাদ কর্তৃক সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira